মানুষ সৃষ্টি এবং নবী-রাসূল প্রেরণের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো তাওহীদ تَوْحِيد — আল্লাহকে তাঁর ইবাদত ও বৈশিষ্ট্যে একক জেনে, একক মেনে চলা। কুরআন বারবার এই একটি লক্ষ্যেই ফিরে আসে।
“আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগূতকে পরিহার করো।”
“আর তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল আমি পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত করো।’”
“আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদাত করবে।”
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা رضي الله عنهما বলেছেন — এখানে “ইবাদত” অর্থ তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ সৃষ্টির উদ্দেশ্যই হলো তাওহীদ।
তাওহীদ শব্দের অর্থ
তাওহীদ শব্দের শাব্দিক অর্থ — কোনো কিছুকে এক বলা, এককভাবে আলাদা করা, অংশীদার না করা। আর পারিভাষিক অর্থ — আল্লাহকে এমন বৈশিষ্ট্যে এককভাবে গুণান্বিত করা যা একমাত্র তাঁরই জন্য প্রযোজ্য, এবং সেই বৈশিষ্ট্যে অন্য কাউকে শরিক না করা।
তাওহীদের প্রকারভেদ
আমরা ধারাবাহিকভাবে তাওহীদের রুকন, শর্ত ও প্রকার নিয়ে আলোচনা করব।
রুকন — তাওহীদের দুই স্তম্ভ
রুকন মানে কোনো বস্তুর প্রধানতম অংশ — যেমন ঘরের খুঁটি, যা ছাড়া সেই বস্তুর অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। তাওহীদের রুকন দুইটি, এবং দুইটিই একসঙ্গে লাগবে — যেকোনো একটি দিয়ে তাওহীদ পূর্ণ হয় না।
তাওহীদের দুই রুকন
“অতএব যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, সে নিশ্চয়ই এমন মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল, যা কখনো ছিন্ন হবার নয়।”
লক্ষ করুন — আয়াতে আগে তাগূতকে অস্বীকার, পরে আল্লাহর প্রতি ঈমান। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” — এখানেও আগে লা ইলাহা, মানে কোন ইলাহ নেই - অস্বীকার (নফি)। পরে ইল্লাল্লহ, শুধুই আল্লাহ - সাব্যস্ত (ইসবাত)। এই ক্রম আকস্মিক নয়।
পাত্রে দুধ নিতে হলে আগে পাত্রটিকে ময়লা থেকে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের অন্তর হলো সেই পাত্র, আর ঈমান হলো পবিত্র বিষয়। তাই আগে অন্তরকে তাগূত থেকে সাফ করতে হবে — তবেই তাওহীদ স্থায়ী হবে।
অথচ আমাদের সমাজে তাগুত বর্জনকে দ্বিতীয় সাব্জেক্ট হিসেবেও বলা হয় না। অথচ এটা এক হিসাবে ইমানেরও আগে। অবস্থা এমন যে ১০ বছর আগেও অনেক আলেমই "তাগুত” শব্দটাও জানত না। আর এখনো অনেক জেনারেল মানুষ জানে না। মসজিদ, খানকা, তাবলিগ কোন জায়গাই এখন তাগুত বর্জনের দাওয়াত শুনা যায় না।
মক্কার মুশরিকদের ঈমান না আনার কারণও ছিল এটাই — তাগূত বর্জন করতে তাদের আপত্তি ছিল, আল্লাহর ইবাদতে নয়। তারা বলত, “আমরা কি এক (তথাকথিত) কবির জন্য আমাদের মাবুদদের (তাগুতদের) বর্জন করব?” বর্তমান সমাজের সেকুলাররাও আল্লাহর ইবাদতকে মেনে নেয়, কিন্তু তাগুত বর্জন নিয়ে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ﷺ কে আল্লাহ এমন নির্দেশ দেননি যে প্রথমে কেবল “ইল্লাল্লাহ”-এর দাওয়াত দাও, পরে তাগূত বর্জনের। বরং তিনি শুরু থেকেই দুইটি একসঙ্গে দাওয়াত দিয়েছেন — নফি ও ইসবাত অবিচ্ছেদ্য।
প্রকৃত তাওহীদের পাওয়ার এটম বোমার চেয়েও বেশি। এক লাখ প্রকৃত তাওহীদের অনুসারি পুরো পৃথিবী জয়ের জন্য যথেষ্ট। সাহাবিদের তাওহীদের পাওয়ার ছিল এমন। (রুস্তমকে দাওয়াত দেয়ার কাহিনী)
মিলিয়ে নিন
উত্তর দেখতে কার্ডে ট্যাপ করুন