তাওহীদ সিরিজ · ঈমান বিধ্বংসী দশ কারণ
%
পাঠ ۵ · ঈমান বিধ্বংসী দশ কারণ

শেষ পাঁচ কারণ ও তওবা

দ্বীন নিয়ে উপহাস, যাদু, মুশরিকদের সাহায্য, শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা, ও দ্বীন থেকে বিমুখতা — এবং তওবার আশ্বাস।

বাকি পাঁচটি কারণ এবার দলিলসহ দেখব, তারপর একটি জরুরি নীতি ও তওবার আশ্বাস দিয়ে মডিউলটি শেষ করব।

৬ · দ্বীন নিয়ে উপহাস

আল্লাহ, তাঁর আয়াত, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম , কিংবা দ্বীনের কোনো বিধান, তার প্রতিদান বা শাস্তি নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করা নওয়াকিদ। ‘নিছক মজা করছিলাম’ — এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ ۝ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ

“বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলকে নিয়েই উপহাস করছিলে? তোমরা অজুহাত দিও না, তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করেছ।’”

সূরা আত-তাওবাহ · ৯ঃ৬৫–৬৬

৭ · যাদু

যাদু করা বা করানো — এবং যাদুকে বৈধ মনে করা — বড় কুফর। যাদু শেখাতে গিয়ে ফেরেশতারাও সতর্ক করে দিতেন যে এটি কুফরি।

وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ

“আর তারা (দুই ফেরেশতা) কাউকে শেখাত না যতক্ষণ না বলত, ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষা, সুতরাং তুমি কুফরি করো না।’”

সূরা আল-বাকারা · ২ঃ১০২

৮ · মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য

মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য-সহযোগিতা করা — অস্ত্র, সম্পদ বা সমর্থন দিয়ে তাদের পক্ষ নেওয়া — নওয়াকিদ।

وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

“আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।”

সূরা আল-মায়িদাহ · ৫ঃ৫১

৯ · শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা

কেউ যদি মনে করে যে কোনো ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর শরিয়তের বাইরে থাকতে পারে — যেমন কেউ কেউ ভুল করে খিযির আলাইহিস সালাম عليه السلام-এর ব্যাপারে ধারণা করে — তবে সে কুফরি করল।

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

“আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন চায়, তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

সূরা আলে ইমরান · ৩ঃ৮৫

১০ · দ্বীন থেকে বিমুখতা

আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া — না শেখা, না আমল করা। একে বলে ইরাদ إِعْرَاض

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا ۚ إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنتَقِمُونَ

“আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যাকে তার রবের আয়াত দিয়ে উপদেশ দেওয়া হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।”

সূরা আস-সাজদাহ · ৩২ঃ২২

একটি জরুরি নীতি

ঠাট্টা, গম্ভীরতা কিংবা ভয় — পার্থক্য নেই

এই দশটি কারণের ক্ষেত্রে ঠাট্টা করে, গম্ভীরভাবে, নাকি ভয়ে করা হলো — কোনো পার্থক্য নেই; সবগুলোই সমান ভয়াবহ। একমাত্র ব্যতিক্রম প্রকৃত জবরদস্তি (ইকরাহ إِكْرَاه) — যেখানে অন্তর ঈমানে অবিচল থাকে। আর মনে রাখুন, যেকোনো সময় আন্তরিক তওবায় ফিরে আসার দরজা খোলা।

মিলিয়ে নিন

নওয়াকিদগুলো যে ক্রমে আলোচিত হলো সেভাবে সাজান

۱শিরক
۲মাধ্যম গ্রহণ
۳মুশরিকদের কুফরে সন্দেহ
۴অন্য বিধানকে শ্রেষ্ঠ মনে করা
۵নবীর ﷺ আনা কিছু অপছন্দ
۶দ্বীন নিয়ে উপহাস
۷যাদু
۸মুশরিকদের সাহায্য
۹শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা
۱۰দ্বীন থেকে বিমুখতা
দ্বীন নিয়ে উপহাসের ক্ষেত্রে কোন অজুহাতটি গ্রহণযোগ্য নয়?
কার্ড /
প্রশ্ন
নওয়াকিদ ক'টি?
উত্তর
প্রসিদ্ধ তালিকায় দশটি।

উত্তর দেখতে কার্ডে ট্যাপ করুন

۞

পাঠ শেষ

সম্পন্ন করতে নিচে চাপুন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।