এবার আমরা দশটি কারণের প্রথম পাঁচটি দলিলসহ দেখব। প্রতিটির সঙ্গে খেয়াল করুন — এগুলো নিছক গুনাহ নয়, বরং ঈমানের মূল ভিতকে আঘাত করে।
১ · আল্লাহর ইবাদতে শিরক
আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা — এটিই সবচেয়ে বড় নওয়াকিদ। এর অন্তর্ভুক্ত মৃত ব্যক্তির কাছে দুআ করা, গায়রুল্লাহর নামে মানত করা এবং তাদের উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করা।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করা ক্ষমা করেন না, তবে এর চেয়ে কম যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন।”
“নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার আবাস হয় জাহান্নাম।”
২ · আল্লাহ ও বান্দার মাঝে মাধ্যম গ্রহণ
কেউ যদি আল্লাহ ও নিজের মাঝে মাধ্যম দাঁড় করায় — তাদের ডাকে, তাদের কাছে সাহায্য ও সুপারিশ চায় — সে কুফরি করল। মক্কার মুশরিকরাও ঠিক এই যুক্তিই দিত।
“আমরা তো তাদের ইবাদত এজন্যই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।”
৩ · মুশরিকদের কুফরে সন্দেহ
যে ব্যক্তি মুশরিকদের কাফির মনে করে না, কিংবা তাদের কুফরের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, অথবা তাদের মতবাদকে সঠিক মনে করে — সে-ও কুফরি করল। কারণ এতে কুরআন যাদের কাফির বলেছে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালাকেই অস্বীকার করা হয়।
৪ · অন্য বিধানকে শ্রেষ্ঠ মনে করা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ﷺ-এর আনা পথ ও বিধানের চেয়ে অন্য কারও পথনির্দেশ বা মানবরচিত বিধানকে পূর্ণাঙ্গ বা উত্তম মনে করা নওয়াকিদ।
“তবে কি তারা জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? অথচ নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে?”
৫ · নবীর ﷺ আনা কিছু অপছন্দ করা
কেউ যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ﷺ-এর আনা কোনো বিধান অন্তরে অপছন্দ করে — যদিও সে তা আমলে পালন করে — তবু তা নওয়াকিদ।
“তা এজন্য যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তারা তা অপছন্দ করেছে; ফলে তিনি তাদের আমল নিষ্ফল করে দিয়েছেন।”